একটি মাথা নষ্ট মেয়ের কাহিনী

১)

প্রমার মা উনার এক কলীগের মেয়ের গল্প বলছিলেন।

বললেন, “ওই মেয়ের বিয়ে হওয়ার পরই ও বাপের বাড়ি ফিরে আসল। সবাই জিজ্ঞেস করে কি ব্যাপার? উত্তরে ওই মেয়ে বলল সে নাকি শাড়ি গয়না পরে ফেসবুক এ ছবি দিতে পারবে তাই বিয়ে করেছিল। এছাড়া নাকি ওর কোন আগ্রহ ছিল না।” এই বলে উনি হাসতে লাগলেন,”হাহাহা এই হল আজকালকার ছেলে-মেয়েদের অবস্থা।”

প্রমা বলল, “আম্মু, ওই মেয়ে আর আমার মদ্ধে তেমন পার্থক্য নাই। বাঙ্গালী বিয়েতে আমার ওই শাড়ি গহনা ছাড়া আর কিছুই তেমন ভালো লাগেনা। ”

প্রমার মা এর পর উনার বিশেষ “কুইটটাল্বাম” টাইপ লুক টা দিলেন, যা দিলে ভাষায় কিছু প্রকাশ করা লাগেনা, মানুষ এমনিতেই ভয় পেয়ে যায়। ও তাড়াতাড়ি কেটে পরল।

প্রমার বেশির ভাগ বান্ধবীর অনেক খরচ করে বিয়ে হয়েছে, অনেকের ডিভোর্স ও হয়ে গেছে। দুই পক্ষের বাবা মা, এমনকি, পাত্র-পাত্রি ঋণ করে বিয়ে করেছে। বিয়ে টা টিকে নাই, কিন্তু ঋণ টা রয়ে গেছে। প্রমা ভাবে, এর কোন মানে হয়।

২)

প্রমা, যাকে বলে hopeless romantic, ওর ধ্যান ধারনা এক বৈচিত্র্যময় কল্পনার জগতে ঘুরপাক খায় এবং ও ভাবে বাস্তবও এরকমই হওয়া উচিত । উঠতি বয়সে বেশি বেশি হুমায়ুন আহমেদের বই পরে মাথাটা গেছে।

ও আর ওর পরিবার  আমেরিকায় থাকে। প্রমা ওর বিয়ের অনলাইন প্রফাইল প্রথমে পুরাটাই ইংরেজিতে লিখেছিল। দেখা গেল যারা কন্টাক্ট করছে তাদের ৯৫% ই পাকিস্তানি। বাঙ্গালী ছেলেদের কি আকাল পরল নাকি আমেরিকায়? নাকি পাকিস্তানি আমেরিকানদের বাঙ্গালী মেয়ে বেশি পছন্দ? ব্যাপারটা ঠিক বোঝা গেল না। প্রমা সুন্দরী, পেশায় প্রকৌশলী, ভালো চাকরি করে, ভালো পরিবারের মেয়ে। ওর পাত্রের অভাব নেই। কিন্তু ও চায় ওর মতই সরল, ছেলেমানুষ টাইপ, রোমান্টিক ধরনের পাত্র।

একদিন প্রমার মাথায় একটা বিদঘুটে ইচ্ছা হল। ও ওর প্রফাইলের হেডলাইনে বাংলায় লিখল, “হে আমার future life সঙ্গী, আফনে এখন কুতায়?” বাকি প্রফাইলের পুরাটা তখনও ইংরেজিতে। হঠাৎ একদিন এক বান্দা ওই সাইট এ মেসেজে লিখল, ” এইযে আফা, আমি এইখানে…” এরপর আরকি! দুজনের মধ্যে অদভুত কথপকথন…। ছেলের বাংলা ডাকনাম পল্লব, ওরাও স্বপরিবারে আমেরিকায় থাকে। পল্লব শীঘ্রই সাউথার্ন কালিফরনিয়াতে (প্রমার জায়গায়) কাজে জয়েন করবে।

৩)

দুই পরিবারের মধ্যেই বিয়ের কথা চলছে। ঠিক হয়েছে বাংলাদেশে গিয়ে মূল বিয়ের পর্ব সেরে, আমেরিকায় এসে reception পার্টি দিবে। দেশে গেল দুই পরিবারের লোক। বিয়ের দিন তারিখ ঠিক। কেনাকাটা চলছে। এরকম সময় প্রমার মাথায় একটা উদ্ভট  আইডিয়া চাপল।

8)

এক বন্ধুর বিয়ের নাম করে প্রমা আর পল্লব সিলেটের ছাতকে এসেছে। ও শুনেছে, সিলেটের বৃষ্টি নাকি সবচেয়ে সুন্দর।

৫)

এখন প্রমা আর পল্লব একে অন্যের মুখমুখি দাড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিজছে, সাথে ওদের কিছু বন্ধুবান্ধব। সবাই দাঁত কেলিয়ে হাসছে এবং বৃষ্টিতে ভিজছে।  প্রমার আইডিয়াটা ছিল বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে মূল বিয়ের আগেই মুরুব্বি কাউকে না জানিয়ে বিয়ে করা। কারন আর কিছুই না। একটু এডভেঞ্চার আর কি! কোন ছবি তোলা যাবেনা, ফেসবুক বা অন্য কোথাও ছবি বা স্ট্যাটাস দেয়া যাবে না। ওর নিজের ভাষায়, “বৃষ্টিতে ভিজে ছালা পরে বিয়ে করা।” ছালা পরা সম্ভব না হলেও কেউই কোন ভালো কাপড় চোপড় পরে আসেনি। যেই কাজী লোকটাকে ধরে আনা হয়েছে, ছাতা মাথায় দিয়ে উনি খুব বিকট চেহারা করে আছেন। এই জীবনে অনেক পাগল দেখেছেন, কিন্তু এরকম পাগল হয়ত দেখেন নি। বড়লোকের কত রকমের খেয়ালিপনা!

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s